দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীরে পানির ঘাটতি হলে সবসময় এর লক্ষণ সহজে বোঝা যায় না। মাথাব্যথাকে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফল, দুর্বলতাকে ঘুমের ঘাটতি কিংবা দাঁড়ানোর পর মাথা ঘোরাকে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ মনে হতে পারে। অথচ এসব সাধারণ উপসর্গের আড়ালেও থাকতে পারে শরীরে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি।
তৃষ্ণা পাওয়া পানিশূন্যতার সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। তবে এর পাশাপাশি শরীর আরও কিছু সংকেত দেয়। তবে এই পরীক্ষা পানিশূন্যতা নিশ্চিত করার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে কী হয়?
পানিশূন্যতায় শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—শরীর থেকে বেশি পানি বের হলে রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে। রক্তচাপ কমে যেতে পারে। হৃদ্যন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত কাজ করতে হতে পারে। পানি ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতিতে পেশিতে টান ধরতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত পানিশূন্যতায় কিডনি, মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যায়ামের সময় কিছুটা পানি কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত পানি না খেয়ে শরীর থেকে ক্রমাগত পানি বের হতে থাকলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।
ত্বক চিমটি কেটে পানির ঘাটতি বোঝার উপায়
পানির ঘাটতি বোঝার একটি সহজ উপায় হলো ত্বক হালকা করে চিমটি কেটে ছেড়ে দেওয়া। ত্বক ছেড়ে দেওয়ার পর সেটি কত দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তা দেখা হয়।
যেভাবে পরীক্ষা করবেন—হাতের পেছনের অংশ, পেট বা বুকের ওপরের অংশের ত্বক বেছে নিন। ত্বক হালকা করে চিমটি কাটুন। কয়েক সেকেন্ড পর ত্বক ছেড়ে দিন। ত্বক কত দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরছে, তা লক্ষ্য করুন। দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে এলে সাধারণত তা স্বাভাবিক লক্ষণ। আগের অবস্থায় ফিরতে বেশি সময় লাগলে পানির ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এটিকে পানিশূন্যতা নিশ্চিত করার পরীক্ষা ভাবা যাবে না। শুধু দুই সেকেন্ড গুনে ফল বের করারও দরকার নেই। ত্বক ছেড়ে দেওয়ার পর সেটি কীভাবে এবং কত দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরীক্ষা কতটা কাজে দেয়?
ত্বক চিমটি কেটে পরীক্ষা করা রক্ত পরীক্ষার মতো নির্ভরযোগ্য নয়। এটি পানিশূন্যতা বোঝার অনেকগুলো উপায়ের একটি মাত্র। শুধু এই পরীক্ষার ফল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। অন্য লক্ষণগুলোর সঙ্গেও মিলিয়ে দেখতে হবে। কম বয়সিদের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা বেশি কাজে লাগতে পারে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা কম নির্ভরযোগ্য হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক নমনীয়তা কমে যাওয়ায় ত্বক ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।
পানির ঘাটতির আরও কিছু লক্ষণ
শুধু একটি লক্ষণ দেখে পানিশূন্যতা নিশ্চিত করা যায় না। একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যেমন—বেশি তৃষ্ণা পাওয়া। মুখ শুকিয়ে যাওয়া। প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া। স্বাভাবিকের চেয়ে কম প্রস্রাব হওয়া। মাথাব্যথা। অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগা। কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা মাথা ঘোরা। হৃদ্স্পন্দন দ্রুত হওয়া। বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। তবে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলেই যে পানির ঘাটতি হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। ওষুধ বা ভিটামিনের কারণেও প্রস্রাবের রং বদলে যেতে পারে।
তৃষ্ণা পেলেই কি শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে?
সবসময় নয়। তৃষ্ণা শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত। শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে শুরু করলেই তৃষ্ণা লাগতে পারে। তাই তৃষ্ণা পাওয়া মানেই শরীর মারাত্মকভাবে পানিশূন্য হয়ে গেছে এমন নয়।
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত তৃষ্ণাকে পানি খাওয়ার প্রয়োজন বোঝার একটি কার্যকর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে তৃষ্ণা পাওয়ার অনুভূতি কিছুটা কমে যেতে পারে। ফলে তাদের পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি।
সবসময় কম পানি খেলে কী হতে পারে?
দীর্ঘদিন শরীর যতটা পানি হারায়, তার তুলনায় কম পানি পান করলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—কিডনির সমস্যা। কিডনিতে পাথর। প্রস্রাবে সংক্রমণ। কোষ্ঠকাঠিন্য। মাথাব্যথা। ক্লান্তি। মনোযোগ কমে যাওয়া। তবে দীর্ঘদিনের পানির ঘাটতিকে কীভাবে নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
বেশি পানি খেলেও কি সমস্যা হতে পারে?
হ্যাঁ। অতিরিক্ত পানি পান করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বেশি পানি রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এতে গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত পরিস্থিতিতে জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সবার জন্য প্রতিদিন একই পরিমাণ পানি পান করার নিয়ম নেই। বয়স, শরীরের অবস্থা, কাজের ধরন ও আবহাওয়ার ওপর পানির প্রয়োজন নির্ভর করে। ফলমূলের মতো পানিসমৃদ্ধ খাবার থেকেও শরীর পানি পায়।
কেএম